অনেকের ধারণা, স্ট্রোক শুধুমাত্র বয়স্কদের রোগ। কিন্তু বাস্তবতা হলো,বাচ্চাদেরও স্ট্রোক হতে পারে। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক হলে তা গুরুতর শারীরিক, মানসিক ও বিকাশগত সমস্যার কারণ হতে পারে। দুঃখজনক বিষয় হলো, সচেতনতার অভাবে অনেক সময় শিশুদের স্ট্রোক দেরিতে শনাক্ত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব—বাচ্চাদের স্ট্রোক কেন হয়, এর লক্ষণ কী, কীভাবে শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে।
বাচ্চাদের স্ট্রোক কী?
স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা, যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে হঠাৎ করে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়, অথবা কোনো রক্তনালি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে—
- ইসকেমিক স্ট্রোক – রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হওয়া
- হেমোরেজিক স্ট্রোক – রক্তনালি ফেটে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়া
বাচ্চাদের স্ট্রোক কেন হয়?
১. জন্মকালীন ও গর্ভকালীন জটিলতা
গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় কিছু জটিলতা শিশুর স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, যেমন—
✅ গর্ভে অক্সিজেনের ঘাটতি
✅ জটিল বা দীর্ঘ প্রসব
✅ কম ওজন নিয়ে জন্ম
✅ প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি
✅ মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা সংক্রমণ
এ ধরনের কারণে নবজাতকের মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
২. জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease)
অনেক শিশুর জন্মগতভাবে হার্টের গঠনে ত্রুটি থাকে। এর ফলে—
✅ রক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত হয় না
✅ রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে
এটি শিশুদের স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ।
৩. রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা

কিছু শিশুর শরীরে রক্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জমাট বাঁধে। যেমন—
✅ থ্রম্বোফিলিয়া
✅ সিকেল সেল ডিজিজ
✅ জেনেটিক ব্লাড ডিসঅর্ডার
এই অবস্থায় মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হতে পারে।
৪. মস্তিষ্কের রক্তনালির অস্বাভাবিকতা
কিছু শিশু জন্মগতভাবে মস্তিষ্কের রক্তনালির সমস্যায় ভোগে, যেমন—
✅ রক্তনালি খুব সরু হওয়া
✅ রক্তনালির দেয়াল দুর্বল হওয়া
এতে রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হয়ে স্ট্রোক হতে পারে।
৫. সংক্রমণজনিত কারণ
কিছু গুরুতর সংক্রমণ শিশুদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়—
✅ মেনিনজাইটিস
✅ এনসেফালাইটিস
✅ সেপসিস
এই সংক্রমণগুলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
৬. মাথায় আঘাত
দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা খেলাধুলার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে—
✅ রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
✅ অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে
ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
৭. ডিহাইড্রেশন ও অন্যান্য কারণ
✅ শরীরে পানিশূন্যতা
✅ অতিরিক্ত জ্বর
✅ কিছু অটোইমিউন রোগ
✅ বিরল জেনেটিক সিনড্রোম
এসব কারণেও শিশুদের স্ট্রোক হতে পারে।
বাচ্চাদের স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
নবজাতক ও ছোট শিশুর ক্ষেত্রে:
- খিঁচুনি
- শরীরের এক পাশ কম নড়াচড়া করা
- দুধ খেতে অসুবিধা
- অস্বাভাবিক কান্না বা নিস্তেজ ভাব
বড় শিশুর ক্ষেত্রে:
- হঠাৎ কথা বলতে সমস্যা
- মুখ বেঁকে যাওয়া
- শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ
- হাঁটতে বা হাত ব্যবহার করতে অসুবিধা
- তীব্র মাথাব্যথা, বমি
এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাচ্চাদের স্ট্রোক কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
স্ট্রোক নির্ণয়ের জন্য করা হতে পারে—
- MRI বা CT Scan
- রক্ত পরীক্ষা
- হার্ট পরীক্ষা (ECHO)
- EEG (প্রয়োজনে)
বাচ্চাদের স্ট্রোকের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

শিশুদের স্ট্রোকের চিকিৎসা সাধারণত সমন্বিতভাবে করা হয়—
- শিশু নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধান
- প্রয়োজনে ওষুধ
- ফিজিওথেরাপি
- অকুপেশনাল থেরাপি
- স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি
- কগনিটিভ ও বিহেভিওরাল থেরাপি
দ্রুত থেরাপি শুরু করলে শিশুর উন্নতির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
স্ট্রোকের পর শিশুর ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে?
সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে অনেক শিশু—
- স্বাভাবিক বা কাছাকাছি জীবনযাপন করতে পারে
- স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে
তবে দেরিতে শনাক্ত হলে হতে পারে—
- সেরিব্রাল পালসি
- মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার
- কথা বলতে দেরি
- শেখার সমস্যা
উপসংহার
বাচ্চাদের স্ট্রোক কেন হয়—এর পেছনে জন্মগত, শারীরিক ও পরিবেশগত নানা কারণ রয়েছে। সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো থেরাপিই পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।
অভিভাবক হিসেবে শিশুর আচরণ বা চলাফেরায় হঠাৎ পরিবর্তন দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
Institute of Neuro Development & Research(INDR) এর দক্ষ এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ সফলতার সাথে অটিজম আক্রান্ত শিশুর সকল সেবা ও থেরাপি করে আসছে।
আমাদের সকল সেবা সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ : 01931405986 অথবা ভিজিট করুনঃ https://www.autismbd.com
স্বনির্ভর জীবনের পথে আপনার পাশে INDR।
#PediatricStroke #ChildHealth #StrokeAwareness #শিশুর_স্ট্রোক